রোববার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫

|

চৈত্র ২২ ১৪৩১

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

লাঙ্গলবন্দ মহাঅষ্টমী স্নানোৎসবে পূর্ণ্যার্থীদের ঢল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৬:১১, ৫ এপ্রিল ২০২৫

লাঙ্গলবন্দ মহাঅষ্টমী স্নানোৎসবে পূর্ণ্যার্থীদের ঢল

মহাঅষ্টমী স্নানোৎসব

নারায়নগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দ এলাকায় ব্রহ্মপূত্র নদে চলছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাপমোচনের মহাঅষ্টমী স্নানোৎসব।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম এই উৎসবকে ঘিরে পুরো দেশ থেকে আসা পূর্ণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে লাঙ্গলবন্দে।

শনিবার (৫ এপ্রিল) লাঙ্গলবন্দ এলাকা ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

এর আগে শুক্রবার রাত ২ টা ৮ মিনিট থেকে শুরু হয় লাঙ্গলবন্দ মহাঅষ্টমী  স্নানোৎসব। শনিবার রাত ১২ টা ৫১ মিনিট পর্যন্ত চলবে এই উৎসব।

এদিকে স্নানোৎসব উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণ্যার্থীদের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে স্নান এলাকায় ২০ টি স্নান ঘাট, কাপড় পাল্টানোর জায়গা, চিকিৎসা সেবার ভ্রাম্যমান কেন্দ্র, শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি সরবারাহের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেড় হাজার সদস্যরা। স্নান এলাকায় টহলে আছে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা।

অন্যান্য বছরের চেয়ে এবারের আয়োজন বেশ গোছানো বলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা। নদীর তীরে ভিড় থাকলেও তেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না বলে জানান তারা।

লাঙ্গলবন্দে স্নান করতে আসা লোকনাথ সাহা জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্নান করতে এসেছি। এখানে সবসময়ই অনেক ভিড় হয়। এবারও তার ব্যাতিক্রম না, তবে ভোগান্তি কম এখন।

স্নানোৎসবে আসা রিয়া ঘোষ জানান, এবছর লাঙ্গলবন্দে পর্যাপ্ত শৌচাগার ও কাপড় পাল্টানের জন্য জায়গা করে দেয়া হয়েছে। এটা মহিলাদের জন্য বেশ প্রয়োজনীয়। সুন্দর আয়োজন হয়েছে এ বছর।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা জয় কে রয় চৌধুরী বলেন, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা জোরদারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন লাঙ্গলবন্দ তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। পাপস্খলনের এ উৎসবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ এসে এখানে সমাবেত হয় প্রতিবছর। পরশুরামের পাপ থেকে মুক্তি হওয়ার কথা স্মরণ করে শত শত বছর ধরে লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে এই অষ্টমী স্নান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পূর্ণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ১৬০ টি শৌচাগার স্থাপন করা হয়েছে। স্নান এলাকায় নিরাপত্তায় বসানো হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। সিসিটিভির পাশাপাশি পর্যবেক্ষণের জন্য থাকবে ড্রোন। পূর্ণ্যার্থীদের নিরাপত্তার জন্য লাঙ্গলবন্দ  জুড়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।