
ফাইল ছবি
কারুকার্য ও নির্মাণশৈলী মোগল স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ার ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ। প্রায় সাড়ে ৫০০ বছরের পুরোনো এ মসজিদ ঘিরে যেন রহস্যের শেষ নেই। ব্রিটিশ আমলে জড়িয়ে থাকা অত্যাচারী জমিদারদের বিরোধে মাটি চাপা দেয়া হয় মসজিদটিকে। সেই থেকে স্থানীয়দের কাছে তা পরিচিতি পেয়েছে গায়েবী মসজিদ নামে।
সেখান থেকে উদ্ধারের পর তৎকালীন দিল্লির আদালতের দেওয়া রায়ে এতে নামাজ পড়ার সুযোগ পান মুসলিমরা।
বরবক শাহের নামানুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয় শাহী মসজিদ। বর্গাকার মসজিদটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ৪০ ফুট করে। চারপাশের দেয়াল ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি চওড়া। পূর্বপাশে রয়েছে খিলান আকৃতির প্রবেশপথ। এর ইটের দৈর্ঘ্য ১২ ইঞ্চি, প্রস্থ ১০ ইঞ্চি এবং চওড়া ২ ইঞ্চি।
জানা গেছে, ১৪৬৫ খ্রিষ্টাব্দে গৌড়ের ইলিয়াস শাহি বংশের উত্তরাধিকার নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের ছেলে রুকনউদ্দিন বরবক শাহ তৎকালীন আছিয়া খাতুনের পরগনা শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের মুড়পাড়া এলাকায় বেড়াতে আসেন। তার সফরসঙ্গী ছিলেন জৌনপুরের শাসনকর্তা মাহমুদ শর্কী, মুসলমান সাহিত্যিক আমীর জয়েনউদ্দীন, আমীর শিহাবউদ্দীন কিরমানী, মনসুর সিরাজী ও দেহরক্ষী বাসুদেব বসু। মোগল রীতি অনুযায়ী বরবক শাহ আছিয়া খাতুনের পরগনায় মসজিদ নির্মাণ করেন।
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর বরবক শাহের নামানুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয় শাহী মসজিদ। আছিয়া খাতুন তার পরগনা থেকে ১৮ বিঘা জমি এ মসজিদের নামে দিয়ে দেন। তাই আছিয়া খাতুনের মসজিদ নামেও জানেন স্থানীয়রা। মসজিদে নিয়মিত নামাজ, বয়ান ও ধর্মীও কাজ সম্পন্ন করা হয়। কারুকার্য ও নির্মাণশৈলীর বিবেচনায় মোগল স্থাপত্যের নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম শাহী মসজিদ। প্রায় সাড়ে ৫০০ বছরের পুরোনো এই মসজিদ। বরবক শাহের নামানুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয়। বর্গাকার মসজিদটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ৪০ ফুট করে। চারপাশের দেয়াল ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি চওড়া। পূর্বপাশে রয়েছে খিলান আকৃতির প্রবেশপথ। ইটের দৈর্ঘ্য ১২ ইঞ্চি, প্রস্থ ১০ ইঞ্চি এবং চওড়া ২ ইঞ্চি।
তবে কালের আবর্তে মসজিদটির দেয়াল, ছাদে ও গম্বুজে ফাটল ধরেরেছ। মসজিদের সামনের জমি বেদখলের ঘটনায় হুমকির মুখে পড়েছে মসজিদটি।
শাহী মসজিদের পাশে রয়েছে ৫টি কবর। এখানে শায়িত এ মসজিদের জমিদাতা পরগনার মালিক আছিয়া খাতুনও। আরেকজন মৌলভী শমসের মিয়া। বাকি তিনটি কবর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের।
মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ির জমিদারদের লোকজন এক সময় স্থানীয় মুসলমানদের বিতাড়িত করতে অত্যাচার করত। শাহী মসজিদটি তৎকালীন ১ গম্বুজ বিশিষ্ট অংশ হাতি দিয়ে মাটি রেখে পুরো মসজিদ মাটি চাপা দিয়ে রাখে। পরে প্রায় ৮০ বছর এ মসজিদ স্থানীয়রা ব্যবহার করতে পারেননি। তবে দুইশ বছর আগে স্থানীয় মুসুল্লিরা মিলিত হয়ে মাটি সরিয়ে মসজিদ উন্মুক্ত করেন। এরপর নাওড়া গ্রামের মৌলভী সমশেরসহ স্থানীয় মুসুল্লিরা নামাজ আদায় করতে আজান দিলে জমিদারের লোকজন হাতি নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় গ্রামের মুসলমান আর হিন্দু জমিদারের লোকজনের সাথে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মৌলভী শমসের মিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
বর্তমানে মসজিদে রয়েছে খাঁজকাটা ৩টি গম্বুজ। মসজিদটির সামনের অংশে মুসুল্লিদের জায়গা বাড়ানোর জন্য করা হয়েছে অস্থায়ী বারান্দা সাদৃশ্য টিনের চালা। যাতে অনেকটাই ঢেকে গেছে মসজিদের সৌন্দর্য। প্রধান ফটক অক্ষত থাকলেও তা ব্যবহার হচ্ছে না। মাটি চাপা থেকে উদ্ধার করায় স্থানীয়দের কাছে এ মসজিদ গায়েবী মসজিদ হিসেবেও পরিচিত।
দড়িকান্দী গ্রামের বাসিন্দা মসজিদ কমিটির সদস্য মো. মনির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় প্রথমে কলকাতার আদালত পরে দিল্লির কেন্দ্রীয় আদালতে মামলা হলে ওই মামলার রায়ে শাহী মসজিদটি পুনরায় মুসলমানরা স্বাধীনভাবে নামাজ আদায় করেন। আছিয়া খাতুনের স্মৃতি কিংবা মুসলিম বীর মৌলভী শমসের মিয়ার স্মৃতি রক্ষা চান এলাকাবাসী।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন বলেন, মসজিদটি রক্ষাণাবেক্ষণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। কারুকার্য ও নির্মাণশৈলী মোগল স্থাপত্যের নিদর্শন দেশি-বিদেশী পর্যটকরাও এখানে ঘুরতে আসেন। তাদের কেউ কেউ মসজিদে নামাজ আদায় করে থাকেন।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের উন্নয়নে এবং সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। বর্তমান সরকার ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদের উন্নয়নে নজর দিবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।